জন্ম

জন্ম

দুঃখের গর্ভে আমি জন্ম দেই
সুখ নামক প্রাণোচ্ছল এক শিশুকে।
বেড়ে উঠতে উঠতে, চালাক হতে হতে সে ভুলে যায় নিজের উচ্ছাসের কথা।
ভুলে যায় তাঁর পিতার কথা, উৎসের কথা। বিস্মৃতিতে ডুবে যাওয়া জীবন তাকে বিষময় করে তোলে স্মৃতি দিয়েই।

রাত্রির গর্ভে আমি জন্ম দেই
দিবস নামক এক উজ্জ্বল শিশুকে।
বুড়ো হতে হতে, বিকেল গড়াতে গড়াতে ম্লান হয়ে আসে তার বিকিরণ। দুপুরে —হিংস্রতায়, প্রতাপে সে ভুলে যায় সেও খুন হয়ে যাবে সন্ধ্যার কচি আঁধারে।

ব্রহ্মাণ্ডের গর্ভে আমি জন্ম দেই
ঈশ্বর নামক এক অবুঝ শিশুকে।
জাগতিক বোঝাবুঝির চক্রে ঘুরপাক খেয়ে, সহস্র মুখোশের নিচে তলিয়ে গিয়ে সে ভুলে যায় তার আভ্যন্তরীণ ঐশ্বর্যের কথা।
ভিখিরির মত হাত পেতে থাকে রিক্ত জগতের কাছে।

শূন্যতার গর্ভে আমি জন্ম দেই—
আমাকে। জন্ম দিতে দিতে, জন্ম নিতে নিতে আমিও ভুলে যাই আমার পিতা কে।

এই ভুলে যাওয়ার চক্রেই মেলা জমে উঠে প্রাণের—
চলমান থেকে যায় আমার বিস্মৃত পিতৃত্ব।

Comments

comments

2,063 views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *