স্বপ্নান্তর

মধ্যরাত। সিগারেট টানছি। ধোঁয়া ছাড়ছি। টানা আর ছাড়ার মাঝখানে প্রতিবারই সিগারেটটা ছাইদানির মুখের কাছে নিয়া তর্জনী দিয়ে টোকা দিচ্ছি। সিগারেট খাওয়ার সময় এতবার টোকা দেয়ার কোন দরকার নেই। কিন্তু আমি দেই। এটা আমার অভ্যাস। এই অভ্যাস আমার ছাড়তে ইচ্ছা করে না। সিগারেটে কোন স্বাদ নেই। বিস্বাদ লাগছে। তবুও টেনে যাচ্ছি। আসলে সিগারেটে কখনই কোন স্বাদ […]

নৈশূন্য

কালো পিচের রাস্তাটাকে দন্তহীন মুখে চুমু খেতে খেতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে তিনটে কালো টায়ার। ঠিক যে সামনে এগুচ্ছে সেটাও বলা যাচ্ছে না। কারণ টায়ারের কাছে সামনে-পেছনে বলে কিছু নেই। এরা শুধু ঘুরে আর চুমু খায়। চুমু খেতে খেতে কোথায় যায় এরা জানে না। কেন ঘুরে সেটাও জানে না। পেট ভর্তি এদের উষ্ণ হাওয়া। যখন খিদে […]

এমোরাল

তখন নাইট শিফটে কাজ করি। অফিস শুরু হয় রাত দশটায়, শেষ হয় সকাল সাতটায়। সারারাত লম্বা একটা ডেস্কে সারিবদ্ধ ভাবে বইসা সামনে দুইটা মনিটরের দিকে তাকাইয়া থাইকা, ডান হাত দিয়া মাউস নাড়াইয়া, দুই হাতের দশ আঙুল দিয়া কীবোর্ডে টিপাটিপি কইরা পার কইরা দিতাম রাতের পর রাত। কাজগুলা ছিল গদবাঁধা, তার মানে খুব একটা সহজ যে […]

অগ্নিচোখ

হসপিটালের লাউঞ্জে বইসা আছি। ডাক্তার আসবে। কম্পাউণ্ডাররে জিজ্ঞেস করলেই সে একঘেয়ে ভাবে বইলা যাইতেছে ‘স্যার আসতেছে, পথে’। কিন্তু অনন্তকাল পার হইয়া যায়, তাঁর স্যার আর আসে না। এইটা ডাক্তারদের স্বভাব। কনসাল্টিং আউয়ারে আইসা এরা প্রায় কখনই পৌছায় না। তবে অনন্তকাল পার হইয়া গেলেও এইটা নিশ্চিত যে ডাক্তার আসবে। দেরি করলেও এরা আসে। এই ব্যপারটারে মন্দের […]

দ্যা সেন্টিপিডস ডাইলেম্মা

একবার এক ব্যাঙ একটা শতপদী সেন্টিপিডরে জিগাইল, “ভাই, তুমি এই একশোটা পাও নিয়া কিভাবে এত সুন্দর কইরা হাইটা বেড়াও? সাবলীল ভঙ্গীতে এতগুলা পাও সিঙ্করোনাইজ কইরা কিভাবে হাঁটো? কোন পায়ের আগে কোন পাওটা ফেলতে হয় সেই হিসাবটা কিভাবে রাখো? আমার তো দুইটা পাও ম্যানেজ করতেই বেগ পাইতে হয়!” সেন্টিপিড এই কথা শুইনা একটু চিন্তায় পইড়া গেল। […]

এরাবি

নর্থ রিচমণ্ড সড়কটি ছিল নিঝুম একটা কানা গলি। শুধুমাত্র ক্রিশ্চিয়ান ব্রাদার্স স্কুলের ছুটির সময়টায় কিছুক্ষণের জন্য কোলাহলে জেগে উঠত গলিটা। তারপর আবার ডুবে যেত নির্জনতায়। গলির কানা মাথায় এক খণ্ড চৌকো জমিতে দাড়িয়ে ছিল একটা দোতলা বিচ্ছিন্ন বাড়ি, পরিত্যক্ত। নিজেদের ভেতরের বাস করা আভিজাত্যে সজাগ বাদ বাকি বাড়িগুলো বাদামি শান্ত চেহারা নিয়ে একে অন্যের দিকে […]

রাম খিলাভান

এইমাত্র একটা ছারপোকা মারলাম। একটা ট্রাঙ্কে কিছু পুরনো কাগজপত্র ঘাঁটছিলাম। সেখানেই হঠাৎ সাইয়িদ ভাইজানের একটা ফটো খুঁজে পেলাম। টেবিলের উপর পড়ে থাকা একটা খালি ফ্রেমে ভাইজানের ফটোটা গুঁজে দিয়ে চেয়ারে বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম। ধোবি আসবে। প্রতি রবিবারেই আমি এভাবে বসে অপেক্ষা করি, কারণ সপ্তাহ শেষ হলেই আমার পরিষ্কার কাপড়ের সাপ্লাই ফুরিয়ে যায়। এটাকে ঠিক […]

এভেলিন

জানালার ধারে বসে সে দেখছিল এভিনিওতে সন্ধ্যা নামার দৃশ্যটা। তাঁর মাথাটা ঝুঁকে ছিল জানালার পর্দাগুলোর দিকে আর তাঁর নাসারন্ধ্রে লেগে ছিল ধূলিমলিন কাপড়ের গন্ধ। সে ছিল ক্লান্ত। কয়েকটা লোক অতিক্রম করে গেল। সর্বশেষ কুঠি থেকে বের হওয়া লোকটাও রওয়ানা দিল বাড়ির দিকে; শান বাঁধানো রাস্তায় হেঁটে চলা লোকটার পায়ের খটখট আওয়াজ ভেসে আসছিল তাঁর কানে, […]

লাইসেন্স

গাড়োয়ান আবু ছিলো খুবই কেতাদুরস্থ এবং তাঁর গাড়িটা ছিলো শহরের এক নম্বর গাড়ি। সে কেবল নিয়মিত যাত্রীদেরই তাঁর গাড়িতে নিতো। এখান থেকে তাঁর প্রতিদিন গড়ে আয় হতো দশ থেকে পনের রুপি, আর এই টাকাতেই তাঁর দিব্যি দিন চলে যেতো। অন্যসব গাড়োয়ানদের মত মদের প্রতি তাঁর কোন ঝোঁক ছিলো না, কিন্তু ফ্যাশনের প্রতি তাঁর একটা দুর্বলতা […]

হারিয়ে যাওয়া রাস্তা

মার্ক জিরনডিন সিটি হলের প্রকৌশলী বিভাগের নথি সংরক্ষণ সেকশনে এত দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছে যে পুরো শহরটা একটা মানচিত্রের মত তাঁর মনের ভিতরে অধিশায়িত ছিলো। শহরের প্রতিটা জায়গা, আনাচ-কানাচ, রাস্তাঘাট, কানা গলি আর চিপা গলি সবই ছিলো তাঁর মুখস্থ। পুরো মন্ট্রিয়ালে শহর সম্পর্কিত এত জ্ঞান তাঁর মত আর কেউ রাখতো না। ডজন খানেক পুলিশ আর […]