রানী

আমি তোমার নাম দিয়েছি রানী। তোমার চেয়েও দীর্ঘদেহী কেউ আছে, আরও দীর্ঘ। তোমার চেয়েও বিশুদ্ধ কেউ আছে, আরও বিশুদ্ধ। তোমার চেয়েও প্রাণবন্ত কেউ আছে, আরও প্রাণবন্ত। কিন্তু তুমিই রানী। যখন তুমি হেঁটে বেড়াও রাস্তাগুলোতে কেউ চিনতে পারে না তোমাকে। দেখতে পায় না কেউ তোমার মাথার স্বচ্ছ মুকুট, চোখ পড়ে না কারো তোমার পায়ের তলায় দলিত […]

মস্তিষ্কে অনুভূত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

মরি তো প্রতিদিনই, প্রতি মুহূর্তে। আশা মরে, স্বপ্ন মরে, মরণ নিজেও মরে। সেদিনও মরেছিলাম। মস্তিষ্কে অনুভুত হয়েছিল একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। ছিল শোকার্তরা, দ্বিধান্বিত। তাদের পদধ্বনি অবিরাম মাড়িয়ে যাচ্ছিলো অনুভূতি ছেদনের আগ পর্যন্ত। যখন সবাই উপবিষ্ট একটা অনুষ্ঠান, ড্রামের মত বেজে যাচ্ছিলো মন অসাড় হওয়ার আগ পর্যন্ত। তারপর শুনতে পেলাম বাক্স উত্তোলনের কড়কড় শব্দ। সেই একই বুট জুতা […]

অ্যামোর

এতগুলো দিন, আহ! এতগুলো দিন এতটা কাছে, এতটা স্পষ্ট করে দেখেছি তোমায় কি করে শোধবো এই ঋণ, কি দিয়ে শোধবো, বলো? কুঞ্জবনে জেগে উঠেছে রক্ত পিপাসু বসন্তটা। শৃগালেরা ছেড়েছে তাঁদের ধরাধাম, সর্পরা আকণ্ঠ পান করেছে শিশির বিন্দু, আর আমি, দেবদারু আর নীরবতার মাঝখানে তোমার সাথে ঘুরে বেড়াই পাতায় পাতায়, নিজেকে সুধাই, কখন এবং কিভাবে তোমাকে […]

সবার সাথে একা

মাংস পিণ্ডটা আচ্ছাদিত করে কঙ্কালটাকে আর তাঁরা সেখানে জুরে দেয় একটা মন কখনও কখনও একটা আত্মা, মহিলাটা ফুলদানিগুলো ছুড়ে মারে দেয়ালে, ভেঙ্গে চুরমার লোকটা মদ গেলে খুব এবং কেউই খুঁজে পায় না একজনকে কিন্তু খুঁজতে থাকে সবাই হামাগুড়ি দিয়ে উঠে, নেমে বিছানা থেকে। মাংস আচ্ছাদিত করে কঙ্কালটাকে, আর মাংস খুঁজে বেড়ায় মাংসের চাইতেও বেশী কিছু। […]

আমার পেছনে ডুব দেয় অনন্তকাল

আমার পেছনে — ডুব দেয় অনন্তকাল— আমার সম্মুখে — অমরত্ব— আর আমি — এ দুয়ের মধ্যিখানে— মৃত্যু হল পুবাকাশের ধূসর প্রবাহমান বাতাস, মিশে যায় ভোরের নরম আলোয়, পশ্চিমে দিন শুরুর আগেই— এটা রাজত্ব — অতঃপর — তাঁরা বলে— নিখুঁত — বিরতিহীন রাজতন্ত্র— যার রাজপুত্র — অমানবের ছেলে— সে— তাঁর অন্তহীন বংশ পরম্পরা— সে — বৈচিত্রপূর্ণ […]

দূরে যাইও না

দূরে যাইও না, একদিনের জন্যেও না, কারণ— কারণ — ক্যামনে বলিঃ একটা দিন যে অনেক লম্বা আমি অপেক্ষা করতে থাকব তোমার জন্যে, যেন একটা শূন্য ষ্টেশনে যখন ট্রেনগুলা এক কোনায় পইড়া থাকে, ঘুমে বিভোর। আমারে ছাইড়ো না, এক ঘণ্টার জন্যেও না, কারণ তখন যন্ত্রণার ছোট ছোট ফোঁটাগুলা এক হইয়া দৌড়াবে, ঘরের খোঁজে কাতর এদিক-ওদিক ঘুইরা […]

আমি কেহ নই! তুমি কে?

আমি কেহ নই! তুমি কে? তুমিও কি আমার মতই কেহ নও? তাহলে তো আমরা এখন দু’জন — কাউকে বলো না কিন্তু! শুনতে পেলে তাঁরা ডাক ঢোল পেটাবে — জানো তো! আহ! কি ক্লান্তিকর কেহ হওয়াটা! কতটা লৌকিক! একটা ব্যাঙের মত সারাটা দিন প্রশংসায় পঞ্চমুখ সোঁদা মাটির দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জের মত নিজের নাম আওড়ানো ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ, […]

আমি হইতে চাই বিষণ্ণ

আমি চাই, আমি চাই, আমি চাই, বিষণ্ণ হইতে। পাহাড়ের পেছনে পিছলাইয়া নাইমা পড়ে সূর্যটা আমি চাই ফাঁকা হইতে, ভিতরে। সবাই যে ভালোবাসা নিয়া প্রতিজ্ঞা করে, কোথায়, খুঁইজা পাব আমার দোরগোড়ায়? মনে হয় আমি সরাইয়া দিছি ভালোবাসা ঝাড়ু দিয়া, দিনের পর দিন। আমি চাই, আমি চাই, আমি চাই, শূন্য হইতে। ব্যথা নয়, অনুশোচনা নয়, আনন্দও নয় […]

যদি আমি মইরা যাই, আর না মরো তুমি —

যদি তুমি মইরা যাও, আর না মরি আমি— চলো শোকরে আর দীর্ঘ হইতে না দেই, না দেই বড় হইতে যেইখানে দুইজনের বাস, তাঁর চাইতে বিস্তীর্ণ আর কি হইতে পারে! ফসলের গায়ে লাইগা থাকা ধূলি, মরুভূমির বালি, সময়, এলোমেলো জল, আবছা হাওয়া ঝাইড়া নিয়া গেছে আমাদেরকে, শস্যকণার মতই। হয়তো মহাকালের বুকে আমরা খুঁইজাই পাইতাম না দুইজনরে। […]

অনুপস্থিতি

আমি ছাইড়া যাই নাই তোমারে, খুব একটা, যখন তুমি ঢুইকা পড় আমার ভেতর, স্বচ্ছ, অথবা কম্পমান, অথবা অপ্রস্তুত, আহত হইয়া আমার দ্বারা অথবা উদ্বেলিত, ভালোবাসায়, তোমার চক্ষু বুইঝা আসে উপহার পাইয়া, জীবনের অন্তহীন উপহার, আমি দেই তোমারে।   প্রিয়তমা, আমরা দুইজন দুইজনরে খুঁইজা পাইলাম তৃষ্ণার্ত, পান করলাম সবটুকু পানি, আর সবটুকু রক্ত, আমরা পাইলাম দুইজনরে […]