আপনে যা দেখতে চান

আপনে যদি চক্ষে অন্ধকার দেখেন, বুইঝা নিয়েন আপনে অন্ধকারই দেখতে চাইছিলেন, আলো না। কিন্তু আপনের স্বভাব অন্ধকাররে দোষারোপ করা। এইখানে বাত্তি নিভানো অন্ধকারের আলাপ হইতাছে না। যদি ঈশ্বররে দেখতে চান, চক্ষু মেইলা চাইয়া থাকেন, দেখতে পাইবেন। তবে সেইটা সাবজেকটিভ, কারণ আপনের দেখা ঈশ্বরটা শুধু আপনারই। যদি লুসিফার অথবা ইবলিশরে দেখতে চান, তারও দেখা পাইবেন, চাইলে […]

দ্যা বাবল ট্র্যাপ

প্রায় সব লেভেলের মানুষই নিজেরে যুক্তিবাদী মনে করে। কারণ নিজের যুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক কোন কিছুরেই মানুষ বিশ্বাস করতে চায় না। নিজের বিশ্বাসটা ভিত্তিহীন হইলেও সে এইটারে তাঁর যুক্তির সাথে গোঁজামিল দিয়া একটা ভিত্তি তৈরি কইরা নেয়। আবার সব লেভেলের মানুষই বিশ্বাসী। সবাই কিছু না কিছু বিশ্বাস করে। এমনকি সন্দেহবাদী আর অবিশ্বাসীরাও। কারণ একজন অবিশ্বাসী বিশ্বাস […]

কানার হাটবাজার

এবং দুঃখের বিষয় হইল আপনে শত সহস্র পন্থায় জ্ঞান দিয়া, বুঝাইয়াও একজন মানুষের ভ্রম কাটাইতে পারবেন না। যদি কখনও দেখেন আপনার কথায় কারো ভ্রম কাটছে, তাহলে বুইঝা নিবেন আপনি আসলে তাঁর ভ্রম কাটান নাই, সে নিজেই তাঁর ভ্রম কাটানোর জন্যে তৈরি ছিল, আপনার কথা শুধু সেইটারে তরান্বিত করছে। ইলুশ্যন বা ভ্রমে ডুইবা থাকাটা পুরা হিউম্যন […]

মডারেট নামা

গ্রামে ‘রেডি খেলা’ নামক এক ধরণের খেলা ছিল। মাটিতে অনেকগুলা দাগ কাইটা কোটা আকারে একটা ‘রেডি ঘর’ বানাইতে হইত। খেলার নিয়ম হইল, নিজ নিজ কোটায় দাঁড়াইয়া থাইকা, দাগ পার না হইয়া প্রতিপক্ষকে হাত দিয়া ছোঁয়া লাগতো। এতে কইরা একজন খেলোয়াড় নিজের কোটায় দাঁড়াইয়া শরীরটাকে যতটা সম্ভব বেন্ড কইরা, আরও অনেক রকম কসরত কইরা আরেকজনরে ছোঁয়ার […]

আপনার ধর্ম সমূহ

এবং মজার বিষয় হইলো, যতই আপনে মনে প্রাণে কেবল একটা ধর্মে বিশ্বাস করেন না কেন, আপনার ধর্ম কিন্তু অনেকগুলা। সাধারণত আপনার বিশ্বাসের ধর্মটা কেবল আপনার বিশ্বাস আর কিছু রিচুয়ালেই আটকা পইড়া থাকে। বিশ্বাসে আপনার ধর্ম একটা হইলেও, বাস্তবে আপনে অনুসরণ করেন মাল্টিপল রিলিজিয়ন। আপনার রিলিজিয়নের লিস্টটা অনেক লম্বা। তবে এদের মধ্যে প্রধানতম ধর্মগুলা হইলোঃ ক্যাপিটালিজম, […]

দ্যা প্রিজন অব সোশ্যাল নর্ম

সোসাইটি হইলো মানুষরে হ্যাণ্ডিক্যাপ বানানোর বৃহদাকার, প্রায় সফল, প্রাচীন একটা প্রোডাকশন হাউজ। এইখানে দক্ষতার সাথে সেই এগরিকালচার রেভুলুশনের পর থাইকা, অর্থাৎ প্রায় দশ হাজার বছরেরও বেশী সময় ধইরা মানুষরে হ্যাণ্ডিক্যাপ বানানো হইয়া থাকে। সোসাইটি এই কাজটা করে কতগুলা সিস্টেমের সাহায্যে। তাঁর মধ্যে অন্যতম হইলো এডুকেশন সিস্টেম। প্রাতিষ্ঠানিক এডুকেশন আসছেই মানুষরে উন্নতমানের কামলা বানানোর জন্যে, জ্ঞানী […]

ডিসকানেকশন

দুনিয়ার সব দুঃখ, কষ্ট আর ভোগান্তির মূলে যা কাজ করে তা হইলো মানুষের একাকীত্ব। এক গাদা বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডা দিয়া, পার্টি কইরা, রেস্টুরেন্টে খাইয়া সেলফি তুইলা ফেসবুকে আপলোড দিয়া আপনে আপনার এই একাকীত্ব দূর করতে পারবেন না। পারেন ও না। কিংবা খুব কেয়ারিং এবং আপনার মনের মত জুতসই কোন জীবনসঙ্গীও আপনার সত্যিকারের একাকীত্ব দূর […]

মৃত্যু সুন্দর

কেমন হইবো, যদি আপনে ২৫-২৯ বছর বয়সী কোন সুদর্শন যুবক কিংবা সুন্দরী যুবতী হন, আর তখন আপনার বয়স সেইখানেই থাইমা যায়, আর না বাড়ে? অর্থাৎ শত সহস্র বছর ধইরা আপনে টানটান যৌবন উপভোগ করলেন? যেন তেন যৌবন না, ‘ফেয়ার এন্ড লাভলি’ চেহারা যুক্ত যৌবন? নিশ্চয়ই খুব চমৎকার হইব! বড়ই চমৎকার! কারণ, এইটা মানুষের একটা আকাঙ্ক্ষা। […]

ভালোবাসা

ভালোবাসা কোন সিলেক্টিভ জিনিস না যে আপনে কিছু মানুষরে অথবা কিছু জিনিসরে সিলেক্ট কইরা তারপর বাসবেন। ভালোবাসা হইলো সূর্যের আলোর মত। সূর্য কোন দেশ, জাতি, বর্ণ, ধর্ম, অথবা গোত্ররে বাছাই কইরা তাঁর আলো বিলায় না। সে সবাইরেই আলো দেয়, কারণ এইটাই তাঁর স্বভাব। ভালোবাসার স্বভাবটাও এমনই। কিন্তু আপনে আসলে সবাইরে ভালবাসতে পারেন না। এর কারণ […]

জীবন

জীবনরে আপনে যতই আঁকড়াইয়া ধরার চেষ্টা করবেন, জীবন ততই আপনার আঙ্গুলের চিপা দিয়া পিছলাইয়া চইলা যাইব। জীবন পিছলা। এইটাই তাঁর স্বভাব। জীবন কোন সলিড জিনিস না যারে আপনে টানা হেঁচড়া কইরা জোর কইরা সফলতার দিকে টাইনা নিয়া যাইবেন, এরপর এক সময় সফল হইবেন। সফলতা কোন নির্দিষ্ট গন্তব্য না, যেইখানে আপনে অনেক চেষ্টা কইরা একসময় পৌঁছাইবেন। […]