নৈশূন্য

কালো পিচের রাস্তাটাকে দন্তহীন মুখে চুমু খেতে খেতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে তিনটে কালো টায়ার। ঠিক যে সামনে এগুচ্ছে সেটাও বলা যাচ্ছে না। কারণ টায়ারের কাছে সামনে-পেছনে বলে কিছু নেই। এরা শুধু ঘুরে আর চুমু খায়। চুমু খেতে খেতে কোথায় যায় এরা জানে না। কেন ঘুরে সেটাও জানে না। পেট ভর্তি এদের উষ্ণ হাওয়া। যখন খিদে […]

এমোরাল

তখন নাইট শিফটে কাজ করি। অফিস শুরু হয় রাত দশটায়, শেষ হয় সকাল সাতটায়। সারারাত লম্বা একটা ডেস্কে সারিবদ্ধ ভাবে বইসা সামনে দুইটা মনিটরের দিকে তাকাইয়া থাইকা, ডান হাত দিয়া মাউস নাড়াইয়া, দুই হাতের দশ আঙুল দিয়া কীবোর্ডে টিপাটিপি কইরা পার কইরা দিতাম রাতের পর রাত। কাজগুলা ছিল গদবাঁধা, তার মানে খুব একটা সহজ যে […]

অগ্নিচোখ

হসপিটালের লাউঞ্জে বইসা আছি। ডাক্তার আসবে। কম্পাউণ্ডাররে জিজ্ঞেস করলেই সে একঘেয়ে ভাবে বইলা যাইতেছে ‘স্যার আসতেছে, পথে’। কিন্তু অনন্তকাল পার হইয়া যায়, তাঁর স্যার আর আসে না। এইটা ডাক্তারদের স্বভাব। কনসাল্টিং আউয়ারে আইসা এরা প্রায় কখনই পৌছায় না। তবে অনন্তকাল পার হইয়া গেলেও এইটা নিশ্চিত যে ডাক্তার আসবে। দেরি করলেও এরা আসে। এই ব্যপারটারে মন্দের […]

গল্পঃ বর্ষা ও মৃত্যুর পরশ

খস খস শব্দ করে ছোট মামা তাঁর রুক্ষ পা দুটোতে জোরসে তেল মেখে যাচ্ছে। হাত বাড়িয়ে তেলের শিশিটি নিয়ে নিল মামুন। বোতলটি কাত করে সাবধানে হাতের তালুতে একটু ঢেলে নিয়ে সেও মাখতে শুরু করল নিজের পায়ে। এখন আমাকেও মাখতে হবে। এটা মাছ ধরার পূর্ব প্রস্তুতি। বিলের জলে বেশিক্ষণ থাকলে পানি কামড়ায়। আর এই পানির কামড় […]

অনুবাদ গল্পঃ ডিম

যখন মারা গেলেন, তখন আপনে বাসায় ফিরতেছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনা ছিলো। উল্লেখযোগ্য কিছুই না, তারপরেও ব্যপারটা সাংঘাতিক। আপনে বউ আর দুইটা বাচ্চা ফালাইয়া মইরা গেছেন। মৃত্যুটা ছিলো যন্ত্রনাহীন। ডাক্তাররা অনেক চেষ্টা করছে আপনারে বাঁচানোর, কিন্তু তাঁদের চেষ্টায় কাজ হইলো না। আপনার পুরা শরীরের সব হাড়গোড় চুরমার হইয়া গেছিলো, মইরা গেছেন এইটাই ভালো হইছে, বিশ্বাস করেন। এরপরই […]