নৈঃশব্দ্য

চলো ডুব দেই নৈঃশব্দ্যে, চুষে নেই স্থির মুহূর্তগুলো। পৃথিবীর বুকে অন্তত একবার সবকটি ভাষার গলা টিপে ধরে চলো নীরব হই, একটু দাড়াই। দেখো, মুহূর্তটা কেমন অচেনা হয়ে উঠবে, কোন তাড়া নেই, ইঞ্জিনের শব্দ নেই, একটা আকস্মিক বিস্ময়ে একত্রিত হবো সবাই আমি, তুমি, সে। তিমিদের গায়ে আঘাত করা থামিয়ে দিবে শীতল সাগরের মাঝিরা, লবণ জমানো সেই […]

মস্তিষ্কে অনুভূত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

মরি তো প্রতিদিনই, প্রতি মুহূর্তে। আশা মরে, স্বপ্ন মরে, মরণ নিজেও মরে। সেদিনও মরেছিলাম। মস্তিষ্কে অনুভুত হয়েছিল একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। ছিল শোকার্তরা, দ্বিধান্বিত। তাদের পদধ্বনি অবিরাম মাড়িয়ে যাচ্ছিলো অনুভূতি ছেদনের আগ পর্যন্ত। যখন সবাই উপবিষ্ট একটা অনুষ্ঠান, ড্রামের মত বেজে যাচ্ছিলো মন অসাড় হওয়ার আগ পর্যন্ত। তারপর শুনতে পেলাম বাক্স উত্তোলনের কড়কড় শব্দ। সেই একই বুট জুতা […]

স্থির, বসে থাকো

স্থির, বসে থাকো নড়ো না, একদম স্টিল! যেন তুমি নেই, থেকেও। আমার গলার আওয়াজ যেন দূর থেকে ভেসে এসে আঘাত হানছে তোমার কর্ণকুহরে। উড়ে চলে গেছে তোমার চক্ষু দুটো একটা চুমু সিলগালা করে দিয়েছে তোমার মুখ। সবগুলো বস্তু জেগে উঠেছে আমার আত্মাটা নিয়ে তাঁদের ভেতর থেকে তুমি গলে বেয়ে নেমে এসেছ, তুমিই আমার আত্মা, অথবা […]

সময়ের কিনারায়

ভাসতে ভাসতে দাঁড়াই গিয়ে সময়ের কিনারায় শরীর থেকে খসে পড়ে থোকা থোকা মোহ, মনটা ছিঁড়ে যায়, ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোয়, সাদা রক্ত, রক্তারক্তি মন। সবগুলো লালিত বিভ্রান্তি আমাকে অ-সময়ের মোড়ে ফেলে রেখে চলে যায়। আমি ভাসি, ভাসতে থাকি চমৎকার এই ভাসাভাসি! আরামে চক্ষু মুদি আমি তরঙ্গের তালে তালে। শূন্যতার মহাসমুদ্র আমার পেট ভরে, মন ভরে, […]

অব্যাখ্য

সবকটি ভাষা — সবগুলো শব্দমালা গিলে খেয়ে বসে আছো নিশ্চুপ। একটা শব্দ — একটাও অবশিষ্ট নেই তোমাকে ব্যাখ্যা করার। সবকটি গ্রহ — প্যারালাল সব ব্রহ্মাণ্ড গিলে খেয়ে বসে আছো নিশ্চুপ। একটু জায়গা — তিল পরিমাণও অবশিষ্ট নেই তোমাকে ধারণ করার। আর এইখানে শব্দহীনতায় আমি শব্দ ছুড়ি কুকুরের মুখে হাড্ডি ছোড়ার মতই। আমি অতীত ছুড়ি, ভবিষ্যৎ […]

অহং

সেদিন ঘনিষ্ঠতম বন্ধুটি এসেছিল। কড়া নেড়েছিল দরজায়। বললাম, “কে ওখানে?” বলল, “আমি”। বললাম, “চলে যাও। টেবিলে যথেষ্ট গোশত রাখা নেই যে তোমাকে খাওয়াবো।” সে চলে গেল। কয়েকদিন পর আবার খট খট খট! “কে ওখানে?” “আমি” “যাও তো। আর বিরক্ত করোনা!” চলে গেল। বছর খানেক ঘুরে, সিদ্ধ হয়ে আবার এসে আলতো করে কড়া নাড়ল। বললাম, “কে?” […]

এক খাবলা শূন্যতা, তুমি আর আমি

এক খাবলা শূন্যতা, তুমি আর আমি পুস্কুনির ধারে বইসা আমরা সামনে টলটলা পানি। টানটান নীরবতায় শুনতে পাই তোমার নিঃশ্বাসের ফ্যাচফ্যাচ ধ্বনি। মাথার উপরে ডান কোণায় দুপুরের সূর্যটা কেমন তেরছা হইয়া আলো দিতাছে, কোন তাপ নাই। আচ্ছা, এইটা কি চাঁদ? তোমার নাকের ডগায় এক ফোঁটা ঘাম চিকচিক কইরা জ্বলতাছে, সূর্যের আলোয় অথবা চাঁদের আলোয়। আমার নাক […]

মহাদ্রোহ

আমি মাতাল জন্মসুখে মাতাল, জন্মদুখেও মাতাল, মাতাল আমি জন্মলজ্জায়, মাতলামি আমার অস্থিমজ্জায় মাতলামি প্রতিটা রন্ধ্রে। আমি হেলি, দুলি, পা পিছলাই, কাদায়, বাচ্চারা আমার পিছু নেয়, হাসে, ঢিল ছুড়ে, আমি পিছন ফিরি, তাকাই, ঢুলুঢুলু চোখ, বাঁকা হয় আমার ঠোঁট, তাচ্ছিল্যের হাসি “কবে বড় হবে এরা?” আমি অগ্নি আগুন আমার সন্তান আগুনই আমার প্রেয়সী, আমি আগুন জ্বালাই, […]

মুক্তি

অতীত নেই, ভবিষ্যৎ নেই পূর্ব-পশ্চিম দিকও নেই। ওপরে আকাশ নেই, নিচে মাটি নেই । বুম! সব উধাও। ফাঁকা। শূন্য। পবিত্র মহাশূন্য! আছে মুহূর্ত, অনন্ত মুহূর্ত। আছে মুহূর্ত প্রেম, শর্তহীন অনন্ত প্রেম। আমি নেই। তুমি, সে কেউই নেই। সূর্য নেই, চন্দ্র নেই। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিও নেই। আছে সব, আছে সবাই। সবই এক। একটাই বিন্দু। শুরু নেই, শেষও […]