কি দেব তোমায়?

ভেবেছি একটা উপহার দেব তোমাকে— আমি ধরণীর বুকে তন্নতন্ন করে খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি কিছুই। কি দেব, কি দেব, কি দেব তোমায়? সোনা নিয়ে সোনার খনির কাছে গিয়ে কি লাভ, বল? কিংবা জল নিয়ে সমুদ্রের কাছে? আমি ব্রহ্মাণ্ড উপড়ে ফেলেছি খুঁজতে গিয়ে, কিন্তু পাইনি কিছুই। কি দেব, কি দেব, কি দেব তোমায়? আমার হৃদপিণ্ড? আমার আত্মা? […]

তোমার পাশাপাশি শুয়ে ঘুমুতে চাই

আমি তোমার পাশাপাশি শুয়ে ঘুমুতে চাই, গিঁট লেগে থাকবে তোমার-আমার চুলে। একীভূত আমাদের অঙ্গ দুটো, বালিশে রূপ নেবে তোমার মাথা। আমি তোমার পিঠাপিঠি হয়ে ঘুমুতে চাই, নিঃশ্বাসহীন একত্বতা। কোন শব্দ নেই আমাদের অন্যমনস্ক করার, কোন চক্ষু নেই মিথ্যা বলার, কোন বস্ত্র নেই কৃত্রিমতার। আমি তোমার বুকে বুক মিশিয়ে ঘুমুতে চাই, চাপা উত্তেজনায় ঘর্মাক্ত, হাজারো কাঁপুনির […]

মুখ

তোমার কারণে আমি হয়েছি এক উল্কাপিণ্ড, আমি ধেয়ে যাই আকাশপানে, যেথায় তোমার বাস, এখন তুমি চাইলে অবজ্ঞায় ফিরিয়ে দিতে পারো আমায় অথবা দেখেও করতে পারো না দেখার ভান। কিন্তু আমার স্ফুলিঙ্গ – প্রজ্বলিত হবেই তোমার মুখ, তুমি চাইলেও লুকোতে পারবে না, পারবে না ঢেকে রাখতে তোমার গাঢ় নীলে পুঞ্জিভূত সৌন্দর্য। শরিফুল ইসলাম মে ০৭, ২০১৮

আয়না চোর

তোমার একটা আয়না আমি চুরি করেছি – তুমি বলতে পারো, ‘চাইলেই পারতে, আমি দিয়ে দিতাম।’ কিন্তু না – এই আয়নার সৃষ্টি হয়েছে শুধু চুরি হওয়ার জন্য। আমি বুঝে গেছি কালান্তরে আমিই এটাকে চুরি করব বারবার। আমি আয়না দেখি। সকাল, বিকাল, রাতে। আমার সবক’টা যুক্তির ঘর ভেঙ্গে চুরমার হয়। আমি দেখি – একটা পরাবাস্তব সীমাহীন ছোট্ট […]

অ-ঈশ্বর

একশো সতেরটা জনম পার করার পর আমি আটকা পড়েছি আঠারোতে, সেও অর্ধ শতাব্দী আগের কথা। পুনর্জন্মের তৃষ্ণায় আমার আত্মা ফেটে এখন চৌচির। থমকে গেছে জন্মান্তরের উড়ন্ত পাল। নিস্তব্দ। সময়ের জরায়ুতে এখন আর উর্বরতা নেই। সূর্যটাও স্থির। চারিদিকে বিস্তীর্ণ আলোর জাল। আছে আত্মা জ্বালা করা তাপ। তবে আলোর ফোটনগুলো সব আমার মতই তৃষ্ণার্ত। ঢেউ নেই, ঢেউ […]

অর্ধেক জীবন

জীবনের পথে আমি হেঁটে বেড়িয়েছি অর্ধেক, অর্ধেক পিয়েছি জল।   এ যেন জ্বরের ঘোরে দেখা স্বপ্নের মধ্যে হাঁটাহাঁটি, সহস্র মাইল হেঁটেও পা ছুঁতে পারে না মাটি।   অর্ধেক খোলা চোখ অর্ধেক রুদ্ধ হৃদয় নিজেকে নিয়ে অর্ধেক জানাজানি অর্ধেক বলা কথা   নিজেকে অর্ধেক দেখি ভূত দেখার মত অর্ধেক দেখি তোমাকে, অর্ধেক মানুষ হয়ে ঘুরে বেড়াই […]

তুমি নাইচা বেড়াও আমার বক্ষতলে

আমি তো জানি না কিভাবে ভালোবাসতে হয়, ভালোবাসার কি কোন পন্থা আছে? আছে বোধয়।   শতাব্দীর পর শতাব্দী তো পার হইল ভালোবাসার রাস্তা খুঁজতে গিয়া, কিন্তু শুরুই হইল না এখনো ভালোবাসা।   মহাকালের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জইমা উঠে ক্লান্তিতে জড়াইয়া আসে আমার জোড়া পা।   এরই মধ্যে দৃশ্যমান হও তুমি, হও কি? নাকি আমিই […]

তুমি কি হাসতেছ?

পৃথিবীতে আগুন লাইগা গেছে! তুমি কি হাসতেছ? তুমি তো ডুইবা আছো গভীর অন্ধকারে। এখন কি আলো চাইবা না? তোমার এই দেহটারে দেখো – যেন একটা অঙ্কিত পুতুল, একটা খেলনা, জোড়া দেওয়া, অসুস্থ, এবং মিথ্যা কল্পনায় টইটম্বুর। এইটা একটা ছায়া যা স্থান বদলায়, মুইছা যায়। কতটা ভঙ্গুর এই দেহ! ভঙ্গুর এবং আকস্মিক, এইটা অসুস্থ হয়, পচন […]

তুমি বাগান হইয়া শুইয়া থাকো

তুমি বাগান হইয়া শুইয়া থাকো আর আমি চাইয়া থাকি পলকহীন, গভীর স্পৃহা। আমার গ্রামের বাড়ির একটা খোলা জানালা — এই যেন তুমি বাহির হইয়া পড়লা, উদ্বিগ্ন, আমার সাক্ষাতের আকাংখায়। যেইসব রাস্তায় আমার দৈবাৎ দেখা মেলে — তুমি মৃদু পায়ে হাইটা বেড়াও, অতঃপর মিলাইয়া যাও শূন্যতায়। এবং মাঝে মাঝে, কোন এক দোকানের আয়নায় তুমি ভাইসা উঠো, […]

তোমারে দেখি না আমি

তুমি এইখানেই ছিলা, আমি দেখি নাই তুমি এইখানেই আছো, আমি দেখতে পাইতেছি না এইখানেই থাকবা তুমি, আমি দেখতে পাব না জন্মের আগেই আমার চোখে ফিল্টার বসানো হইছে, যেন দেখতে না পাই তোমারে তোমারে দেখার স্বাদ কি আমার জাগে? মনে হয় না, তবে তোমারে দেখি না এইটা খালি মনে হয় এই যে না দেখাদেখি, এইটাতে কি […]