আমি বইসা থাকি, তুমি আসবা বইলা

আমি বইসা থাকি তুমি আসবা বইলা কোন অপেক্ষা নাই এই বইসা থাকায় এইটা কেবল বইসা থাকা অপেক্ষাহীন আসবা তুমি শব্দদের পিঠে চইড়া একটা জুতার মত যার ভিতরে কোন পাও নাই, একটা জুব্বার মত যার ভিতরে কোন শরীর নাই, ঠকঠক করবা তুমি আমার দরজায়, তোমার হাতের আংটিটা দিয়া, যার ভিতরে কোন পাথর নাই, কোন আঙ্গুলও নাই। […]

জেন হাইকু সমগ্র

ভূমিকা জাপানি শর্ট ফর্মের কবিতা হাইকু। জাপানি হাইকু লেখা হয় এক লাইনে। ট্র্যাডিশনাল হাইকুতে সিলেবাল থাকে ১৭ টা। কিন্তু মডার্ন হাইকুতে সিলেবাল আরও বেশীও থাকতে পারে এবং লাইন হয় একাধিক। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে তা হয় তিন লাইন। হাইকুর মূল সত্তা ঠিক রেখে লুজ ট্রান্সলেশন হয় বিভিন্ন ভাষায়। হাইকুতে মূলত একটা সিঙ্গেল ইমেজকে তুলে ধরা হয়। ইমেজটা […]

অনুপায়

হৃদপিণ্ডের মাঝখানটায় একটা জায়গা আছে যা পূর্ণ হয় না কখনই, হবেও না। একটা ফাঁকা জায়গা এমনকি সেইসব মুহূর্তেও যখন আকণ্ঠ ডুবে রই স্বর্গসুখে। স্বর্গ ভেদ করে যখন ঊর্ধ্বগামী হই তখনও, শূন্য। একদিন সবাই টের পাব দেখতে পাব সেই শূন্য ঘরটা সবকিছু তুচ্ছ হবে, চোখ আটকা পড়বে শূন্যতায়। হৃদপিণ্ডের মাঝখানটায় একটা জায়গা আছে যা পূর্ণ হয় […]

নৈঃশব্দ্য

চলো ডুব দেই নৈঃশব্দ্যে, চুষে নেই স্থির মুহূর্তগুলো। পৃথিবীর বুকে অন্তত একবার সবকটি ভাষার গলা টিপে ধরে চলো নীরব হই, একটু দাড়াই। দেখো, মুহূর্তটা কেমন অচেনা হয়ে উঠবে, কোন তাড়া নেই, ইঞ্জিনের শব্দ নেই, একটা আকস্মিক বিস্ময়ে একত্রিত হবো সবাই আমি, তুমি, সে। তিমিদের গায়ে আঘাত করা থামিয়ে দিবে শীতল সাগরের মাঝিরা, লবণ জমানো সেই […]

মস্তিষ্কে অনুভূত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

মরি তো প্রতিদিনই, প্রতি মুহূর্তে। আশা মরে, স্বপ্ন মরে, মরণ নিজেও মরে। সেদিনও মরেছিলাম। মস্তিষ্কে অনুভুত হয়েছিল একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। ছিল শোকার্তরা, দ্বিধান্বিত। তাদের পদধ্বনি অবিরাম মাড়িয়ে যাচ্ছিলো অনুভূতি ছেদনের আগ পর্যন্ত। যখন সবাই উপবিষ্ট একটা অনুষ্ঠান, ড্রামের মত বেজে যাচ্ছিলো মন অসাড় হওয়ার আগ পর্যন্ত। তারপর শুনতে পেলাম বাক্স উত্তোলনের কড়কড় শব্দ। সেই একই বুট জুতা […]

স্থির, বসে থাকো

স্থির, বসে থাকো নড়ো না, একদম স্টিল! যেন তুমি নেই, থেকেও। আমার গলার আওয়াজ যেন দূর থেকে ভেসে এসে আঘাত হানছে তোমার কর্ণকুহরে। উড়ে চলে গেছে তোমার চক্ষু দুটো একটা চুমু সিলগালা করে দিয়েছে তোমার মুখ। সবগুলো বস্তু জেগে উঠেছে আমার আত্মাটা নিয়ে তাঁদের ভেতর থেকে তুমি গলে বেয়ে নেমে এসেছ, তুমিই আমার আত্মা, অথবা […]

সময়ের কিনারায়

ভাসতে ভাসতে দাঁড়াই গিয়ে সময়ের কিনারায় শরীর থেকে খসে পড়ে থোকা থোকা মোহ, মনটা ছিঁড়ে যায়, ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোয়, সাদা রক্ত, রক্তারক্তি মন। সবগুলো লালিত বিভ্রান্তি আমাকে অ-সময়ের মোড়ে ফেলে রেখে চলে যায়। আমি ভাসি, ভাসতে থাকি চমৎকার এই ভাসাভাসি! আরামে চক্ষু মুদি আমি তরঙ্গের তালে তালে। শূন্যতার মহাসমুদ্র আমার পেট ভরে, মন ভরে, […]

অব্যাখ্য

সবকটি ভাষা — সবগুলো শব্দমালা গিলে খেয়ে বসে আছো নিশ্চুপ। একটা শব্দ — একটাও অবশিষ্ট নেই তোমাকে ব্যাখ্যা করার। সবকটি গ্রহ — প্যারালাল সব ব্রহ্মাণ্ড গিলে খেয়ে বসে আছো নিশ্চুপ। একটু জায়গা — তিল পরিমাণও অবশিষ্ট নেই তোমাকে ধারণ করার। আর এইখানে শব্দহীনতায় আমি শব্দ ছুড়ি কুকুরের মুখে হাড্ডি ছোড়ার মতই। আমি অতীত ছুড়ি, ভবিষ্যৎ […]

অহং

সেদিন ঘনিষ্ঠতম বন্ধুটি এসেছিল। কড়া নেড়েছিল দরজায়। বললাম, “কে ওখানে?” বলল, “আমি”। বললাম, “চলে যাও। টেবিলে যথেষ্ট গোশত রাখা নেই যে তোমাকে খাওয়াবো।” সে চলে গেল। কয়েকদিন পর আবার খট খট খট! “কে ওখানে?” “আমি” “যাও তো। আর বিরক্ত করোনা!” চলে গেল। বছর খানেক ঘুরে, সিদ্ধ হয়ে আবার এসে আলতো করে কড়া নাড়ল। বললাম, “কে?” […]

এক খাবলা শূন্যতা, তুমি আর আমি

এক খাবলা শূন্যতা, তুমি আর আমি পুস্কুনির ধারে বইসা আমরা সামনে টলটলা পানি। টানটান নীরবতায় শুনতে পাই তোমার নিঃশ্বাসের ফ্যাচফ্যাচ ধ্বনি। মাথার উপরে ডান কোণায় দুপুরের সূর্যটা কেমন তেরছা হইয়া আলো দিতাছে, কোন তাপ নাই। আচ্ছা, এইটা কি চাঁদ? তোমার নাকের ডগায় এক ফোঁটা ঘাম চিকচিক কইরা জ্বলতাছে, সূর্যের আলোয় অথবা চাঁদের আলোয়। আমার নাক […]