উপড়ে ফেল আমার দুটি চোখ

উপড়ে ফেল আমার দুটি চোখ, আমি তোমাকেই দেখব, সিলগালা করে দাও আমার দুই কান, আমি তোমাকেই শুনব। এবং পা ছাড়াই তোমার কাছে ছুটে যাব আমি, মুখ ছাড়াই আমি জপতে থাকব তোমার নাম। ভেঙ্গে চুরমার করো আমার বাহুদ্বয়, তোমাকে ধরে রাখব, হৃদপিণ্ডই হয়ে উঠবে আমার হাত। হৃদপিণ্ডকে থামিয়ে দাও, ধুক ধুক ধ্বনি শুরু হয়ে যাবে আমার […]

হে বসন্ত!

তোমার ঐ শিশিরসিক্ত কেশ! তুমি সকালের পরিষ্কার জানালা দিয়ে চোখ ফেলো নিচে, এখানে। তোমার ঐশ্বরিক চোখ ঘুরাও আমাদের পশ্চিম দ্বীপটায়, যেখানে পুরো গানের দল তোমাকে উৎযাপনের তরে ছোটে, হে বসন্ত! পাহাড় গুলো কথা বলে একে অন্যের সাথে। উপত্যকারা কান পেতে শুনে। আমাদের আকাঙ্খায় ভঁরা চোখগুলো তাকিয়ে থাকে তোমার উজ্জ্বল প্যভিলিয়নের দিকেঃ সামনে এসো এবং তোমার […]

ওয়েস্টল্যান্ড ওয়ার্ডস

শব্দেরা কি পৃথক হয়, বিচ্ছিন্ন হয়? নাকি একটা লম্বা বেলুনের থোকার মত — তারা উড়ে বেড়ায়, আর ফুটতে থাকে একই সময়ে? অপূর্ব নীলিমা এই তো সব! কোন বিন্দু নয়, কেন্দ্র নয় — তবুও সর্বত্র ভেসে বেড়ায় স্মিত হাস্য মুখখানি। তর্জমা © শরিফুল ইসলাম নভেম্বর ২২, ২০১৬। [নিক জেরনিন — ওয়েস্টল্যান্ড ওয়ার্ডস]

নাইট অব স্লিপলেস লাভ

রাত্রিটা দাঁড়িয়ে ছিল মাথার উপর। আমরা দু’জন। পূর্ণিমা। কান্না জুড়ে দিলাম আমি, তুমি হাসলে। তোমার অবজ্ঞা হয়ে উঠেছিল ঈশ্বর, আমার আর্তনাদ মুহূর্ত আর ঘুঘুরা আটকা পড়েছিল শিকলে। রাত্রিটা শুয়ে ছিল পদতলে। আমরা দু’জন। ব্যথার কাঁচ। মহা দূরত্বে ছড়িয়ে পড়েছিল তোমার ফুঁপানো কান্না। তোমার ক্ষীণ হৃদপিণ্ডের উপরে আমার ব্যথাটা ছিল একটা নিদারুণ যন্ত্রণার থাবা। ভোর এল […]

দ্যা সেন্টিপিডস ডাইলেম্মা

একবার এক ব্যাঙ একটা শতপদী সেন্টিপিডরে জিগাইল, “ভাই, তুমি এই একশোটা পাও নিয়া কিভাবে এত সুন্দর কইরা হাইটা বেড়াও? সাবলীল ভঙ্গীতে এতগুলা পাও সিঙ্করোনাইজ কইরা কিভাবে হাঁটো? কোন পায়ের আগে কোন পাওটা ফেলতে হয় সেই হিসাবটা কিভাবে রাখো? আমার তো দুইটা পাও ম্যানেজ করতেই বেগ পাইতে হয়!” সেন্টিপিড এই কথা শুইনা একটু চিন্তায় পইড়া গেল। […]

এরাবি

নর্থ রিচমণ্ড সড়কটি ছিল নিঝুম একটা কানা গলি। শুধুমাত্র ক্রিশ্চিয়ান ব্রাদার্স স্কুলের ছুটির সময়টায় কিছুক্ষণের জন্য কোলাহলে জেগে উঠত গলিটা। তারপর আবার ডুবে যেত নির্জনতায়। গলির কানা মাথায় এক খণ্ড চৌকো জমিতে দাড়িয়ে ছিল একটা দোতলা বিচ্ছিন্ন বাড়ি, পরিত্যক্ত। নিজেদের ভেতরের বাস করা আভিজাত্যে সজাগ বাদ বাকি বাড়িগুলো বাদামি শান্ত চেহারা নিয়ে একে অন্যের দিকে […]

রাম খিলাভান

এইমাত্র একটা ছারপোকা মারলাম। একটা ট্রাঙ্কে কিছু পুরনো কাগজপত্র ঘাঁটছিলাম। সেখানেই হঠাৎ সাইয়িদ ভাইজানের একটা ফটো খুঁজে পেলাম। টেবিলের উপর পড়ে থাকা একটা খালি ফ্রেমে ভাইজানের ফটোটা গুঁজে দিয়ে চেয়ারে বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম। ধোবি আসবে। প্রতি রবিবারেই আমি এভাবে বসে অপেক্ষা করি, কারণ সপ্তাহ শেষ হলেই আমার পরিষ্কার কাপড়ের সাপ্লাই ফুরিয়ে যায়। এটাকে ঠিক […]

সিম্পলি দিস

জীবন — নিস্পন্দ, নরম এবং স্বচ্ছ স্পষ্ট। হাসতে হাসতে সে মরে যায় যখন খুঁজে পায় তাঁর আদি উৎস। মৃত্যু — মুচকি হাসে, গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে এক ফোঁটা সুখের জল। আবিস্কারের আনন্দে সে লাফিয়ে উঠে — “আরে! জীবন তো এটাই!” তর্জমা © শরিফুল ইসলাম [লিজ জোন্স — সিম্পলি দিস]

এভেলিন

জানালার ধারে বসে সে দেখছিল এভিনিওতে সন্ধ্যা নামার দৃশ্যটা। তাঁর মাথাটা ঝুঁকে ছিল জানালার পর্দাগুলোর দিকে আর তাঁর নাসারন্ধ্রে লেগে ছিল ধূলিমলিন কাপড়ের গন্ধ। সে ছিল ক্লান্ত। কয়েকটা লোক অতিক্রম করে গেল। সর্বশেষ কুঠি থেকে বের হওয়া লোকটাও রওয়ানা দিল বাড়ির দিকে; শান বাঁধানো রাস্তায় হেঁটে চলা লোকটার পায়ের খটখট আওয়াজ ভেসে আসছিল তাঁর কানে, […]

মায়া

তুমি কি কেবলই একটা ভ্রমের সৃষ্টি? নাকি তুমিই সৃষ্টি করো ভ্রম? তুমি কি এই শরীরের একটা অংশ? নাকি শরীরটা তোমারই একটা অংশ? এই ঘরের ভেতরেই কি শুন্যতা বিরাজমান? নাকি শুন্যতায় বিরাজ করে এই ঘর? নাকি ঘর আর শুন্যতা দুটোরই অস্তিত্ব শুধু চোখের দৃষ্টিতে? চক্ষুটা কি মনের ভেতরে থাকে? নাকি মনটা এই চোখের ভেতর? নাকি মন […]