শিহরণ

নিঃশ্বাসের উপর ভর করে আমি হেঁটে যাই তোমার কাছে। স্কুল জীবনে শিরিনের সদ্য ফোলা বুকের উপর প্রথম চোখ পড়তেই যে শিহরণ জেগেছিল মনে ঠিক সেরকম একটা অনুভূতি আমার অস্তিত্ব ছেয়ে ফেলে তুমি দৃষ্টিগোচর হলে। রক্ত কণিকার উপর ভর করে আমি ভেসে যাই তোমার কাছে। মায়ের পুরনো শাড়ি কেটে লেজ বানিয়ে প্রথম যেদিন আকাশে সাপ ঘুড়ি […]

নিষিদ্ধ অবয়ব

থেকে থেকে একটা নিষিদ্ধ যাতনা কাঁপুনি ধরায় আমার হৃদপিণ্ডে। দীর্ঘ যাতনার ক্লান্তিতে একটা সময় সেখানে নেমে আসে নিষিদ্ধ প্রশান্তি। এভাবে শতাব্দী পার হয় ঝুলে থাকে এক নিষিদ্ধ অনুভূতি। যন্ত্রণায় নীল হয়ে যাওয়া পা ফেলি আমি নিষিদ্ধ ভূমিতে। প্রচণ্ড খিদেয় গিলে খাই নিষিদ্ধ গাছের নিষিদ্ধ ফল, শত বছর অপেক্ষারত আমার তৃষ্ণার্ত চোখ ― প্রথম বারের মত […]

নৈশূন্য

কালো পিচের রাস্তাটাকে দন্তহীন মুখে চুমু খেতে খেতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে তিনটে কালো টায়ার। ঠিক যে সামনে এগুচ্ছে সেটাও বলা যাচ্ছে না। কারণ টায়ারের কাছে সামনে-পেছনে বলে কিছু নেই। এরা শুধু ঘুরে আর চুমু খায়। চুমু খেতে খেতে কোথায় যায় এরা জানে না। কেন ঘুরে সেটাও জানে না। পেট ভর্তি এদের উষ্ণ হাওয়া। যখন খিদে […]

হাইকু সমগ্র

১ গহীন অরণ্য, একটা নিঃসঙ্গ অগ্ন্যুত্সব বিম্বিত হয় পাতায় পাতায়। ২ আমার অঙ্কুরিত বীজ, নগ্ন পায়ে আমি ধরণী চষে বেড়িয়েছি খুঁজেছি তোমার উর্বরতা, রোপণ করব বলে। ৩ চোখের পাতায় ঘুম নামে, মৃত্যু নামে নামে তোমাকে দেখার অপূরণীয় স্বপ্ন। ৪ তুমি পদ্ম হও জলে থাকো কিন্তু তৃষ্ণার্ত জল কখনই ছুঁতে পারে না তোমাকে। ৫ পাথরের নিঃশ্বাস, […]

দ্যা লটারি অব লাইফ

আধুনিক দুনিয়ায় অনেক দেশেই লটারি নামক একটা জিনিসের অস্তিত্ব আছে। প্রতি সপ্তাহেই লাখ লাখ মানুষ মনের মধ্যে ভাগ্য পরিবর্তনের আশা নিয়া লটারি নামক এই জিনিসটাতে অংশগ্রহণ কইরা থাকে। এইখানে লক্ষ্য করার মত ব্যপার হইল, এই লটারিতে কেবল অশিক্ষিত আর সুবিধা বঞ্চিত মানুষজন অংশ নেয়। অর্থাৎ টাকাওয়ালা শিক্ষিত লোকজন ভাগ্য পরিবর্তনের এই পন্থায় তেমন একটা বিশ্বাস […]

কি দেব তোমায়?

ভেবেছি একটা উপহার দেব তোমাকে— আমি ধরণীর বুকে তন্নতন্ন করে খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি কিছুই। কি দেব, কি দেব, কি দেব তোমায়? সোনা নিয়ে সোনার খনির কাছে গিয়ে কি লাভ, বল? কিংবা জল নিয়ে সমুদ্রের কাছে? আমি ব্রহ্মাণ্ড উপড়ে ফেলেছি খুঁজতে গিয়ে, কিন্তু পাইনি কিছুই। কি দেব, কি দেব, কি দেব তোমায়? আমার হৃদপিণ্ড? আমার আত্মা? […]

মুভি টোকিও! (২০০৮) – গভীর সিনেমাটিক ধাঁধা

কেমন হইব যদি একদিন সকাল বেলা হঠাৎ আবিস্কার করেন যে আপনার বুকের মধ্যে একটা বিশাল ছিদ্র এবং খেয়াল কইরা দেইখা টের পাইলেন যে সকালের মিষ্টি রোদটা আপনার পিঠের মধ্য দিয়া ঢুইকা আপনার বুকের মধ্য দিয়া বাহির হইয়া ফ্লোরে গড়াগড়ি খাইতেছে? অর্থাৎ দেখলেন যে আপনার বুকের এপাশ-ওপাশ ছিদ্র হইয়া আছে। এবং আরও দেখলেন যে ছিদ্রের মাঝখানে […]

তোমার পাশাপাশি শুয়ে ঘুমুতে চাই

আমি তোমার পাশাপাশি শুয়ে ঘুমুতে চাই, গিঁট লেগে থাকবে তোমার-আমার চুলে। একীভূত আমাদের অঙ্গ দুটো, বালিশে রূপ নেবে তোমার মাথা। আমি তোমার পিঠাপিঠি হয়ে ঘুমুতে চাই, নিঃশ্বাসহীন একত্বতা। কোন শব্দ নেই আমাদের অন্যমনস্ক করার, কোন চক্ষু নেই মিথ্যা বলার, কোন বস্ত্র নেই কৃত্রিমতার। আমি তোমার বুকে বুক মিশিয়ে ঘুমুতে চাই, চাপা উত্তেজনায় ঘর্মাক্ত, হাজারো কাঁপুনির […]

মুখ

তোমার কারণে আমি হয়েছি এক উল্কাপিণ্ড, আমি ধেয়ে যাই আকাশপানে, যেথায় তোমার বাস, এখন তুমি চাইলে অবজ্ঞায় ফিরিয়ে দিতে পারো আমায় অথবা দেখেও করতে পারো না দেখার ভান। কিন্তু আমার স্ফুলিঙ্গ – প্রজ্বলিত হবেই তোমার মুখ, তুমি চাইলেও লুকোতে পারবে না, পারবে না ঢেকে রাখতে তোমার গাঢ় নীলে পুঞ্জিভূত সৌন্দর্য। শরিফুল ইসলাম মে ০৭, ২০১৮

আয়না চোর

তোমার একটা আয়না আমি চুরি করেছি – তুমি বলতে পারো, ‘চাইলেই পারতে, আমি দিয়ে দিতাম।’ কিন্তু না – এই আয়নার সৃষ্টি হয়েছে শুধু চুরি হওয়ার জন্য। আমি বুঝে গেছি কালান্তরে আমিই এটাকে চুরি করব বারবার। আমি আয়না দেখি। সকাল, বিকাল, রাতে। আমার সবক’টা যুক্তির ঘর ভেঙ্গে চুরমার হয়। আমি দেখি – একটা পরাবাস্তব সীমাহীন ছোট্ট […]