অ-ঈশ্বর

একশো সতেরটা জনম পার করার পর আমি আটকা পড়েছি আঠারোতে, সেও অর্ধ শতাব্দী আগের কথা। পুনর্জন্মের তৃষ্ণায় আমার আত্মা ফেটে এখন চৌচির। থমকে গেছে জন্মান্তরের উড়ন্ত পাল। নিস্তব্দ। সময়ের জরায়ুতে এখন আর উর্বরতা নেই। সূর্যটাও স্থির। চারিদিকে বিস্তীর্ণ আলোর জাল। আছে আত্মা জ্বালা করা তাপ। তবে আলোর ফোটনগুলো সব আমার মতই তৃষ্ণার্ত। ঢেউ নেই, ঢেউ […]

অর্ধেক জীবন

জীবনের পথে আমি হেঁটে বেড়িয়েছি অর্ধেক, অর্ধেক পিয়েছি জল।   এ যেন জ্বরের ঘোরে দেখা স্বপ্নের মধ্যে হাঁটাহাঁটি, সহস্র মাইল হেঁটেও পা ছুঁতে পারে না মাটি।   অর্ধেক খোলা চোখ অর্ধেক রুদ্ধ হৃদয় নিজেকে নিয়ে অর্ধেক জানাজানি অর্ধেক বলা কথা   নিজেকে অর্ধেক দেখি ভূত দেখার মত অর্ধেক দেখি তোমাকে, অর্ধেক মানুষ হয়ে ঘুরে বেড়াই […]

কালচার

একটা কালচারে বরাবরই খারাপ কিছু ঘটতে থাকে। খারাপ কি? খারাপ হইলো একটা কন্ডিশনাল অবস্থান, যা ঐ পার্টিকুলার কালচাররে কালেকটিভলি অসুখী কইরা তোলে। কালচারের এই খারাপরে কখনই এভারেজ পিপলরা দেখতে পায় না। কারণ সে এভারেজ। দেখতে না পাইলেও সে অসুখে ভোগে। এভারেজ কারা? যারা দেখতে পায় না তারাই। ‘এভারেজ’ শব্দটা তাঁদেরকে চিহ্নিত করার একটা আপাত বিশেষণ। […]

উপড়ে ফেল আমার দুটি চোখ

উপড়ে ফেল আমার দুটি চোখ, আমি তোমাকেই দেখব, সিলগালা করে দাও আমার দুই কান, আমি তোমাকেই শুনব। এবং পা ছাড়াই তোমার কাছে ছুটে যাব আমি, মুখ ছাড়াই আমি জপতে থাকব তোমার নাম। ভেঙ্গে চুরমার করো আমার বাহুদ্বয়, তোমাকে ধরে রাখব, হৃদপিণ্ডই হয়ে উঠবে আমার হাত। হৃদপিণ্ডকে থামিয়ে দাও, ধুক ধুক ধ্বনি শুরু হয়ে যাবে আমার […]

তুমি নাইচা বেড়াও আমার বক্ষতলে

আমি তো জানি না কিভাবে ভালোবাসতে হয়, ভালোবাসার কি কোন পন্থা আছে? আছে বোধয়।   শতাব্দীর পর শতাব্দী তো পার হইল ভালোবাসার রাস্তা খুঁজতে গিয়া, কিন্তু শুরুই হইল না এখনো ভালোবাসা।   মহাকালের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জইমা উঠে ক্লান্তিতে জড়াইয়া আসে আমার জোড়া পা।   এরই মধ্যে দৃশ্যমান হও তুমি, হও কি? নাকি আমিই […]

জীবনের অর্থ কি?

জীবনের অর্থ কি? মাটির উপর শ্রেষ্ঠত্বের দাবী নিয়া হাইটা বেড়ানো দোপেয়ে প্রাণীগুলার উদ্দেশ্য কি? এইসব প্রশ্ন শুনতে দার্শনিক প্রশ্ন মনে হইলেও, এইগুলা আসলে প্রথার নিজস্ব সম্পদ। তাইলে প্রথার প্রশ্ন কি দার্শনিক হইতে পারে না? সেইটা ভিন্ন আলাপ। এইসব প্রশ্নের উত্তর দিয়াই প্রথা নিজের অস্তিত্ব টিকাইয়া রাখে। এবং যেহেতু এইগুলা মূলত প্রথার জিনিস, তাই বলা যায় […]

তুমি কি হাসতেছ?

পৃথিবীতে আগুন লাইগা গেছে! তুমি কি হাসতেছ? তুমি তো ডুইবা আছো গভীর অন্ধকারে। এখন কি আলো চাইবা না? তোমার এই দেহটারে দেখো – যেন একটা অঙ্কিত পুতুল, একটা খেলনা, জোড়া দেওয়া, অসুস্থ, এবং মিথ্যা কল্পনায় টইটম্বুর। এইটা একটা ছায়া যা স্থান বদলায়, মুইছা যায়। কতটা ভঙ্গুর এই দেহ! ভঙ্গুর এবং আকস্মিক, এইটা অসুস্থ হয়, পচন […]

তুমি বাগান হইয়া শুইয়া থাকো

তুমি বাগান হইয়া শুইয়া থাকো আর আমি চাইয়া থাকি পলকহীন, গভীর স্পৃহা। আমার গ্রামের বাড়ির একটা খোলা জানালা — এই যেন তুমি বাহির হইয়া পড়লা, উদ্বিগ্ন, আমার সাক্ষাতের আকাংখায়। যেইসব রাস্তায় আমার দৈবাৎ দেখা মেলে — তুমি মৃদু পায়ে হাইটা বেড়াও, অতঃপর মিলাইয়া যাও শূন্যতায়। এবং মাঝে মাঝে, কোন এক দোকানের আয়নায় তুমি ভাইসা উঠো, […]

তোমারে দেখি না আমি

তুমি এইখানেই ছিলা, আমি দেখি নাই তুমি এইখানেই আছো, আমি দেখতে পাইতেছি না এইখানেই থাকবা তুমি, আমি দেখতে পাব না জন্মের আগেই আমার চোখে ফিল্টার বসানো হইছে, যেন দেখতে না পাই তোমারে তোমারে দেখার স্বাদ কি আমার জাগে? মনে হয় না, তবে তোমারে দেখি না এইটা খালি মনে হয় এই যে না দেখাদেখি, এইটাতে কি […]

দ্যা উইসডম অব ইনসিকিউরিটি

কোন বোধগম্য জিনিসই ফিক্সড না। এইটা একটা সিম্পল উইসডম। যে কেউ যে কোন জিনিসের উপর একটু মনযোগ দিলেই সেইটা বুইঝা ফেলার কথা। কিন্তু এই উইসডম যতই সিম্পল হউক না কেন, অলমোস্ট এনটায়ার হিউম্যান রেস এই এক জায়গায় আইসা নিজের জন্যই নিজে সমস্যা বাধায়। ব্যাপারটা কেমন? ব্যাপারটা কেমন তা আপনে ইতিমধ্যেই জানেন। আমিও জানি। আপনি আর […]