আমি বইসা থাকি, তুমি আসবা বইলা

আমি বইসা থাকি তুমি আসবা বইলা কোন অপেক্ষা নাই এই বইসা থাকায় এইটা কেবল বইসা থাকা অপেক্ষাহীন আসবা তুমি শব্দদের পিঠে চইড়া একটা জুতার মত যার ভিতরে কোন পাও নাই, একটা জুব্বার মত যার ভিতরে কোন শরীর নাই, ঠকঠক করবা তুমি আমার দরজায়, তোমার হাতের আংটিটা দিয়া, যার ভিতরে কোন পাথর নাই, কোন আঙ্গুলও নাই। […]

কাফকা প্যারাডক্স

“Art depends on truth, but truth, being indivisable, cannot know itself: to tell the truth is to lie. thus the writer is the truth, and yet when he speaks he lies.” – Franz Kafka লেখকরা মিথ্যাবাদি। অন্যরাও। লেখকরা মিথ্যা বলে লেখার মধ্য দিয়া। যা সে লিখতে চায় তা যদি মুখে বলে তখনও সে মিথ্যাই বলে। […]

নির্বাণ

মহাবিশ্বের কাছ থাইকা আমরা যা চাই, আর মহাবিশ্ব আমাদেরকে যা দেয় তাঁর মধ্যে বিশাল কনফ্লিক্ট। আমরা চাই মিনিং, অর্ডার, পারপাস, আর রিজন, কিন্তু মহাবিশ্বে আছে শুধু ফর্মলেস কেয়স (formless chaos). আর যেইসব ডিসিপ্লিন আমরা দেখতে পাই, এইগুলা জাস্ট মাইক্রো লেভেলে আমাদের সেন্স পারসেপশন। বিগ পিকচারে সবই আওলাঝাউলা। এই কনফ্লিক্টের মধ্যে বাইচা থাকার সবচাইতে সহজ পন্থা […]

জেন হাইকু সমগ্র

ভূমিকা জাপানি শর্ট ফর্মের কবিতা হাইকু। জাপানি হাইকু লেখা হয় এক লাইনে। ট্র্যাডিশনাল হাইকুতে সিলেবাল থাকে ১৭ টা। কিন্তু মডার্ন হাইকুতে সিলেবাল আরও বেশীও থাকতে পারে এবং লাইন হয় একাধিক। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে তা হয় তিন লাইন। হাইকুর মূল সত্তা ঠিক রেখে লুজ ট্রান্সলেশন হয় বিভিন্ন ভাষায়। হাইকুতে মূলত একটা সিঙ্গেল ইমেজকে তুলে ধরা হয়। ইমেজটা […]

অনুপায়

হৃদপিণ্ডের মাঝখানটায় একটা জায়গা আছে যা পূর্ণ হয় না কখনই, হবেও না। একটা ফাঁকা জায়গা এমনকি সেইসব মুহূর্তেও যখন আকণ্ঠ ডুবে রই স্বর্গসুখে। স্বর্গ ভেদ করে যখন ঊর্ধ্বগামী হই তখনও, শূন্য। একদিন সবাই টের পাব দেখতে পাব সেই শূন্য ঘরটা সবকিছু তুচ্ছ হবে, চোখ আটকা পড়বে শূন্যতায়। হৃদপিণ্ডের মাঝখানটায় একটা জায়গা আছে যা পূর্ণ হয় […]

নৈঃশব্দ্য

চলো ডুব দেই নৈঃশব্দ্যে, চুষে নেই স্থির মুহূর্তগুলো। পৃথিবীর বুকে অন্তত একবার সবকটি ভাষার গলা টিপে ধরে চলো নীরব হই, একটু দাড়াই। দেখো, মুহূর্তটা কেমন অচেনা হয়ে উঠবে, কোন তাড়া নেই, ইঞ্জিনের শব্দ নেই, একটা আকস্মিক বিস্ময়ে একত্রিত হবো সবাই আমি, তুমি, সে। তিমিদের গায়ে আঘাত করা থামিয়ে দিবে শীতল সাগরের মাঝিরা, লবণ জমানো সেই […]

দ্যা সেন্টিপিডস ডাইলেম্মা

একবার এক ব্যাঙ একটা শতপদী সেন্টিপিডরে জিগাইল, “ভাই, তুমি এই একশোটা পাও নিয়া কিভাবে এত সুন্দর কইরা হাইটা বেড়াও? সাবলীল ভঙ্গীতে এতগুলা পাও সিঙ্করোনাইজ কইরা কিভাবে হাঁটো? কোন পায়ের আগে কোন পাওটা ফেলতে হয় সেই হিসাবটা কিভাবে রাখো? আমার তো দুইটা পাও ম্যানেজ করতেই বেগ পাইতে হয়!” সেন্টিপিড এই কথা শুইনা একটু চিন্তায় পইড়া গেল। […]

মুভি ক্যা-পাক্স (২০০১) — এলিয়েনের চোখ দিয়া দেখা মানব প্রজাতির অসহায়ত্বে ভরা এক বীভৎস চেহারা

“ফ্যামিলি জিনিসটা হইলো সোসাইটির আবিষ্কার করা সবচাইতে বড় ফাঁদ, যা মিলিয়ন বছর ধইরা মানুষরে দাস বানাইয়া রাখার জন্যে ব্যবহৃত হইয়া আসছে” — এইরকম একটা কথা যদি কেউ আপনার কানের কাছে আইসা বইলা উঠে, তাইলে খুব সম্ভবত আপনার চেহারায় এমন একটা ভাব ফুইটা উঠব যেন এমন আজগুবি কথা আপনে গত কয়েক মিলিয়ন বছরেও শোনেন নাই। যদি […]

এরাবি

নর্থ রিচমণ্ড সড়কটি ছিল নিঝুম একটা কানা গলি। শুধুমাত্র ক্রিশ্চিয়ান ব্রাদার্স স্কুলের ছুটির সময়টায় কিছুক্ষণের জন্য কোলাহলে জেগে উঠত গলিটা। তারপর আবার ডুবে যেত নির্জনতায়। গলির কানা মাথায় এক খণ্ড চৌকো জমিতে দাড়িয়ে ছিল একটা দোতলা বিচ্ছিন্ন বাড়ি, পরিত্যক্ত। নিজেদের ভেতরের বাস করা আভিজাত্যে সজাগ বাদ বাকি বাড়িগুলো বাদামি শান্ত চেহারা নিয়ে একে অন্যের দিকে […]