অলৌকিক সুখ

পেট ভর্তি মানুষ নিয়ে একাকীত্বে ভোগা এই শহরে— গভীরতম বিষণ্ণতা নিয়ে আমার ঘুম ভাঙ্গে। জগতের সবটুকু ভার এসে চেপে বসে আমার অস্তিত্বের উপর। আমি নড়তে পারি না। মনে হয় কোন এক শহুরে ঈশ্বর তার অমরত্বের অভিশাপ ঢেলে দিচ্ছে আমার বক্ষে। আমাকে সে কিভাবে চেনে আমি জানি না। শহরের পেটের মানুষগুলো টের পায় না শহরটা কত […]

মায়া

১ . স্নানের জল হয়ে তোমায় ধরে রাখব, ঘিরে রাখব। যখন উত্থিত হবে তুমি, চামড়ায় অনুভূত হবে আমার নিম্নগামী কোমল স্পর্শ। সিক্ততায় ভুলে যাবে তুমি— কখনও শুকনো ছিলে কিনা। ২ . আমার ছায়ায় ছায়া মিলাও, স্পর্শ করো আমার কম্পমান হৃদপিণ্ডটা— আমার বক্ষ থেকে তুলে নাও পূর্বজন্মের সব পুরনো যন্ত্রণা। . তোমার নবজন্মে— বারবার আমি তোমার […]

জন্ম

দুঃখের গর্ভে আমি জন্ম দেই সুখ নামক প্রাণোচ্ছল এক শিশুকে। বেড়ে উঠতে উঠতে, চালাক হতে হতে সে ভুলে যায় নিজের উচ্ছাসের কথা। ভুলে যায় তাঁর পিতার কথা, উৎসের কথা। বিস্মৃতিতে ডুবে যাওয়া জীবন তাকে বিষময় করে তোলে স্মৃতি দিয়েই। রাত্রির গর্ভে আমি জন্ম দেই দিবস নামক এক উজ্জ্বল শিশুকে। বুড়ো হতে হতে, বিকেল গড়াতে গড়াতে […]

প্যারাডক্স

আজ রাতে আমার মাথায় জন্ম নেবে না কোন কবিতা। প্রসব বেদনায় কাতরাবে না আমার বয়স্ক মস্তিষ্কটা। আঙুলগুলো চেপে বসবে না কিবোর্ডের উপর। পিটপিট করবে না চক্ষু জোড়া। ঠোঁটে চেপে রাখা সিগারেটের ধোঁয়ায় ছোট হয়ে আসবে না ডান চোখ। গভীর নীরবতায় শুনতে পাব না শূন্যতার আর্ত চিৎকার। আজ রাতে মৃত্যু হবে সম্ভাব্য কবিতার। কোন রক্তপাত ছাড়াই। […]

নির্বাণ

সত্যি সত্যি একদিন মস্তিষ্কটা গলে বেয়ে নেমে আসবে হৃদপিণ্ডের কাছে। পাশে বসে কাঁদবে ফুপিয়ে ফুপিয়ে, বিলম্বিত সহস্র জনমের কথা চিন্তা করে হাহাকার জুরে দেবে হৃদপিণ্ড ঘিরে। ঠিক একই ভাবে পুরনো স্বর্গের সিঁড়ি ভেঙ্গে নরম কদমে তুমি নেমে আসবে আমার কাছে। সেদিন আমি তোমাকে আমি কাঁদতে দেব না আফসোসও করতে দেব না কোন প্রকারের, কারণ আমি […]

শর্ত

তোমাকে আমি উড়তে শেখাব যদি তোমার ভাঙ্গা হৃদয়ে হৃদয় ছোঁয়াতে দাও আমায়। তোমার অশ্রুজলে আমি বিদায়ী চুমু খাব যদি আমার বাহুতে এসে আবদ্ধ হও তুমি। ঘন বরষায় তোমায় আলো দেখাব যদি আমার পানে চেয়ে শুধু মুচকি হাসো একবার। আমার লেখা সবগুলো গান তোমায় গেয়ে শোনাব যদি আমার আলিঙ্গনে ঘুমিয়ে পড়তে চাও বারবার। তোমাকে সুউচ্চ পর্বতের […]

সভ্যতা

বেশ্যার পায়ের কাছে পড়ে থাকে সভ্যতা নীরব, নিস্তব্দ, শূন্য জোড়া চোখ তিরতির কাঁপা জোড়া ঠোঁট নিথর জোড়া পা বাঁকা অবয়ব। থেকে থেকে মাটিতে মাথা ঠুকে সভ্যতা চাপা কান্না জুরে দেয়, কি এক আশ্চর্য যন্ত্রণায় পার হয়ে যায় শতাব্দী পর শতাব্দী, কিন্তু তার মুক্তি মেলে না বেশ্যার পদধূলি থেকে। সভ্যতার বন্ধিত্বে থেমে থাকে স্রোতস্বিনীর স্রোত, দাঁড়িয়ে […]

শিহরণ

নিঃশ্বাসের উপর ভর করে আমি হেঁটে যাই তোমার কাছে। স্কুল জীবনে শিরিনের সদ্য ফোলা বুকের উপর প্রথম চোখ পড়তেই যে শিহরণ জেগেছিল মনে ঠিক সেরকম একটা অনুভূতি আমার অস্তিত্ব ছেয়ে ফেলে তুমি দৃষ্টিগোচর হলে। রক্ত কণিকার উপর ভর করে আমি ভেসে যাই তোমার কাছে। মায়ের পুরনো শাড়ি কেটে লেজ বানিয়ে প্রথম যেদিন আকাশে সাপ ঘুড়ি […]

নিষিদ্ধ অবয়ব

থেকে থেকে একটা নিষিদ্ধ যাতনা কাঁপুনি ধরায় আমার হৃদপিণ্ডে। দীর্ঘ যাতনার ক্লান্তিতে একটা সময় সেখানে নেমে আসে নিষিদ্ধ প্রশান্তি। এভাবে শতাব্দী পার হয় ঝুলে থাকে এক নিষিদ্ধ অনুভূতি। যন্ত্রণায় নীল হয়ে যাওয়া পা ফেলি আমি নিষিদ্ধ ভূমিতে। প্রচণ্ড খিদেয় গিলে খাই নিষিদ্ধ গাছের নিষিদ্ধ ফল, শত বছর অপেক্ষারত আমার তৃষ্ণার্ত চোখ ― প্রথম বারের মত […]

নৈশূন্য

কালো পিচের রাস্তাটাকে দন্তহীন মুখে চুমু খেতে খেতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে তিনটে কালো টায়ার। ঠিক যে সামনে এগুচ্ছে সেটাও বলা যাচ্ছে না। কারণ টায়ারের কাছে সামনে-পেছনে বলে কিছু নেই। এরা শুধু ঘুরে আর চুমু খায়। চুমু খেতে খেতে কোথায় যায় এরা জানে না। কেন ঘুরে সেটাও জানে না। পেট ভর্তি এদের উষ্ণ হাওয়া। যখন খিদে […]